মুক্তগদ্য
খুব যখন ছোট ছিলাম একদিন হঠাৎ দেখি দুরদর্শনে এক মহিলা খবর পড়তে গিয়ে কেঁদে দিলেন। পরে জানলাম, রাজীব গান্ধী বলে একজন মারা গেছেন। তখন সেই মানুষটির মহত্ব বোঝার বয়স আমার হয়নি।তবে দেখেছিলাম আমাদের সারা বাড়িতে একটা থমথমে পরিবেশ যা বহুদিন বজায় ছিল।
এরপর যখন একটু বড় হলাম,দেখলাম খবরের কাগজের একটি ছবি। হাজারে হাজারে মানুষ দাঁড়িয়ে আর তাদের সম্মুখে হাত তুলে বক্তৃতা দিচ্ছেন এক মহিলা।পরে জানলাম উনি আমাদের অগ্নিকন্যা।
কিন্তু তখনও আমি রাজনীতির মহত্ব বুঝিনি। এরপর কলেজে উঠলাম। বক্তৃতা আমি আজীবন ভালোই দিয়ে থাকি। সেটা আরও জানলাম যখন আমার বক্তৃতায় গরম হয়ে গোটা কলেজ ক্লাস বয়কট করে বসে রইল। প্রিন্সিপাল মহাশয় আমায় ডেকে নিয়ে গিয়ে বোঝাবার পর সেই বয়কট উঠেছিল।
ব্যাপারটা লোকাল জোনাল কমিটির কানে যেতেই তারা আমায় তাদের মেম্বার করে নিল। এই শুরু। এস এফ আই কি বা তার সারতত্ব কি তখন কিছুই জানতাম না।আর রাজনীতি'ও তার কালো দিকটা আমায় তখনও দেখায়নি।
সেটা দেখতে পেলাম বছর খানেক পর। কিছু একটা ব্যাপার নিয়ে কলেজে গোলমাল শুরু হলো।সেই থেকে হাতাহাতি , মারামারি। আমি কলেজে গিয়ে দেখি পুরো কলেজ লন্ডভন্ড। পরে জানলাম আমাদেরই কোনো একজন জেনারেল সেক্রেটারি হওয়ার জন্য বাইরে থেকে ছেলে নিয়ে এসে এসব করেছে। সেদিন আমি কলেজে ছিলাম না তবে থাকলে কি হতো তা আজও ভাবলে শিউরে উঠি।
আমার সক্রিয় রাজনীতির সেই ইতি। ভেবেছিলাম এই লোমহর্ষক দুনিয়া থেকে দূরে থাকবো। কিন্তু তা কি সত্যিই পারা যায় !
এরপর যখন চাকুরি জীবন শুরু হলো ,বুঝতে পারলাম যে রাজনীতি কিভাবে আমাদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জড়িয়ে আছে। রাজনীতি কিভাবে আমাদের সবাইকে একটা পুতুলের মতন নাচিয়ে চলেছে। দাড়ি কমানোর ব্লেড থেকে পাজামার দড়ি সব জায়গায় রাজনীতি আছে। আমি রাজনীতি'কে ছাড়তে চাইলেও সে আমায় কখনো ছাড়বে না। এমনকি নিমতলা শ্মশানে (যদিও জানি না সেখানেই আমি পুড়বো কিনা ) আমার পোড়ার পর পর্যন্ত রাজনীতি।
আজ আফসোস হয়। একটা বিকট আফসোস।
ইশ! সেই দিন কলেজে আমি যদি থাকতাম তাহলে ভালোই হত। না হয় দুটো ঘুষি খেতাম , চারটে ঘুষি মারতাম কিন্তু এতদিনে রাজনীতির অনেক চেয়ার পার করে আসতে পারতাম। আর হয়ত সমাজের কোনো একটা পরিবর্তন করতে পারতাম।
আর যাইহোক , এরকম পুতুল হয়ে থাকতে হতো না।
